ছবিঃ সংগৃহীত
বিশ্ব ফুটবলে এখন পরিচিত এক নাম লামিনে ইয়ামাল। বার্সেলোনার এই তরুণ তারকার জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। তবে তাঁর নামের শেষাংশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভক্তদের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে। অনেকেই ‘ইয়ামাল’কে তাঁর পদবি মনে করেন। এবার ছেলের নামের প্রকৃত পরিচয় জানিয়ে সেই বিভ্রান্তি দূর করেছেন বাবা মুনির নাসরাউই। জানিয়েছেন, ‘লামিনে ইয়ামাল’ কোনো পদবি নয়, বরং এটি তাঁর যৌথ প্রথম নাম। আর প্রকৃত পদবি হলো ‘নাসরাউই এবানা’।
সম্প্রতি দেপোর্তিভো আলাভেসের বিপক্ষে লা লিগার ম্যাচে বার্সেলোনার ৬-১ গোলের জয়ে জোড়া গোল করেন ইয়ামাল। ম্যাচের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে ছেলের নামের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেন মুনির। তিনি জানান, অনেকেই ভুল করে ইয়ামালকে ছেলের পদবি হিসেবে উল্লেখ করেন। অথচ তাঁর পুরো নাম লামিনে ইয়ামাল নাসরাউই এবানা।
ভিডিও বার্তায় মুনির বলেন, ‘আমি আপনাদের পরিষ্কার করে কিছু বলতে চাই। লামিনের নামের শেষ অংশ হলো নাসরাউই এবানা। শুধু আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি, যাতে আর কোনো বিভ্রান্তি তৈরি না হয়। লামিনে ইয়ামাল আসলে তার প্রথম নাম।’ ছেলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘লামিনে ইয়ামাল, সুখে-দুঃখে তুমি সব সময় আমার ছেলে।’
এর আগে নিজের নাম নিয়ে কথা বলেছিলেন ইয়ামালও। ১৬ বছর বয়সে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর পুরো নাম লামিনে ইয়ামাল। তবে সংক্ষেপে ডাকতে চাইলে শুধু লামিনে বললেই হবে।
স্প্যানিশ ও লাতিন সংস্কৃতির প্রচলিত নামকরণ রীতি অনুযায়ী, ইয়ামালের পদবির প্রথম অংশ এসেছে বাবা মুনির নাসরাউইয়ের কাছ থেকে এবং দ্বিতীয় অংশ এসেছে মা শেইলা এবানার কাছ থেকে। ফলে তাঁর পূর্ণ নাম লামিনে ইয়ামাল নাসরাউই এবানা।
তবে এই নামের পেছনে রয়েছে আরও একটি আবেগঘন গল্প। ইয়ামালের জন্মের আগে তাঁর বাবা-মা মুনির নাসরাউই ও শেইলা এবানা আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই কঠিন সময়ে তাঁদের দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু লামিনে ও ইয়ামাল নানাভাবে সহযোগিতা করেছিলেন। এমনকি বাড়িভাড়া পরিশোধেও পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁরা।
বন্ধুদের সেই সহযোগিতা ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে সন্তান হলে তাঁদের নামেই নাম রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এই দম্পতি। ২০০৭ সালের ১৩ জুলাই প্রথম সন্তান জন্ম নেওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেন তাঁরা।
আজ বিশ্ব ফুটবলে নিজের প্রতিভা ও পারফরম্যান্স দিয়ে আলো ছড়াচ্ছেন ইয়ামাল। অথচ তাঁর নামের মধ্যেই জড়িয়ে রয়েছে বাবা-মায়ের জীবনের কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানো দুই বন্ধুর স্মৃতি। ছেলের নামের বিভ্রান্তি দূর করতে গিয়ে সেই পুরোনো কৃতজ্ঞতার গল্পও নতুন করে সামনে আনলেন মুনির নাসরাউই।